এনেস্থেসিয়ার গল্প - বড় অপারেশনে এপিডুরাল
রহমান সাহেবের সামনে ঘর
ভর্তি
মানুষ,
কিন্তু
তিনি
কিছুই
দেখতে
পাচ্ছেন
না। ক্লিনিকের যে কেবিনটিতে
শুয়ে
আছেন,
এটি
বেশ
ছিমছাম। কেবিনটিতে
দূটো
বিছানা। একটাতে
তিনি
বিরস
মুখে
শুয়ে, অন্যটাতে বসে আছে সবাই। সবাই বলতে তার দুই মেয়ে, আর স্ত্রী।
দুই দিন ধরে তিনি ক্লিনিকে। পায়খানার সাথে রক্ত যাচ্ছিল দেখে গেলেন
মেডিসিনের ডাক্তারের কাছে। উনি পাঠালেন একজন গ্যাস্ট্রএন্টারলজিস্টের কাছে কলনস্কপি
করার জন্য। তার আগে সিটি স্ক্যানও করতে হোল । অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে গেলেন কলনস্কপি
করতে।পুরো একদিন না খাওয়া। আর একটা তরল ওষুধ খেতে দিয়েছিল তাকে পায়খানা পরিষ্কার করার
জন্য। আল্লাহ যেন শত্রুকেও এমন যন্ত্রণা না দেন! কি বিচ্ছিরি স্বাদ রে বাবা! সেরের
উপর সোয়া সেরের মত রাতে যখন পায়খানা ছুটল, বাথরুমটাই স্থায়ী ঠিকানা হয়ে গেল প্রায় পুর
রাতেও মত। আস আর যাও!
হাসপাতালে পৌঁছে কাগজ পত্র সই করে গেলেন নার্সের কাছে। একটা গাউন নিয়ে,
জামাকাপড় বদলে, সেটা পরে নিতে হোল। প্রায় আধা ঘনটা অপেক্ষার পর তার ডাক পড়ল মুল কক্ষে।
স্ট্রেচারে শুইয়ে তাকে নিয়ে গেল একজন নার্স। অল্প একটু ঘুমের ওষুধ দিয়ে পায়ুপথে ক্যামেরা
ঢুকিয়ে সমস্ত ব্রিহদন্ত্রের ছবি দেখলেন ডাক্তার সাহেব। ঘোরের মধ্যেই তাকে নিয়ে আসা
হোল ‘রিকভারি’তে। তার প্রায় কিছু মনে নেই। শুধু ওষুধ দেওয়ার আগে নার্সের কিছু ‘মনিটর’
লাগানোর কথা ছাড়া।
প্রায় ঘণ্টা খানেক পর ডিউটি নার্স বললেন তিনি এখন বাসায় যেতে পারবেন, যাওয়ার আগে ডাক্তার
সাহেব রিপোর্ট নিয়ে কিছু কথা বলবেন। মাথাটা এখন বেশ পরিষ্কার, ঘুম ঘুম ভাব টা আর নেই।
পেটের ব্যথাও বেশ কমেছে। বাঁ পাশে শুয়ে থাকতে হয়েছিল অনেকক্ষণ। এই পরীক্ষার সময় নাকি
বাতাস দিয়ে নাড়ীর ভেতর টা প্রশস্ত করা হয়। বাঁ পাশে শুলে সেই বাতাস আস্তে আস্তে বেরিয়ে
যায়। কথাটা মিথ্যে নয় । কয়েকবার বায়ু বেরিয়ে যেতেই পেটের ব্যাথাও কমল। তিনি হাসপাতালের গাউন ছেড়ে প্যান্ট
শার্ট পরে নিলেন।
ডাক্তার সাহেব তার বিছানার কাছে এসে দাঁড়ালেন। মুখটা ঠিক আগের মত হাসি
হাসি নেই। “পেটের ব্যথা কি কমেছে?”
“হ্যাঁ। রিপোর্ট কেমন ডাক্তার সাহেব? সব কিছু ঠিক আছে তো?”
“ছোট একটা সমস্যা ধরা পড়েছে। আপনার ব্রিহদন্ত্রের ডানদিকে একটা টিউমার
আছে। সেটার জন্যই রক্ত যাচ্ছে। আমি বায়পসি নিয়ে প্যাথলজিতে পাঠিয়েছি। চেহারা দেখে মনে
হয় সেটা কেটে ফেলতে হবে। অপারেশন দরকার হবে।”
অপারেশনের নাম শুনেই মুখ শুকিয়ে যায় রহমান সাহেবের। মনে হয় তিনি আর
কিছু শুনতে পাচ্ছেন না। রহমান সাহেবের স্ত্রী তার হাত শক্ত করে ধরেন। ডাক্তার সাহেব
তার অবস্থা দেখে একটু অপেক্ষা করেন।
“আপনাকে একজন কোলো-রেক্টাল সার্জনের কাছে পাঠাচ্ছি। নূতন ডাক্তার।
এই ধরনের অপারেশনের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। ল্যাপারস্কপি করেও করা যেতে পারে।
তাতে ব্যথা অনেক কম হয়।”
রহমান সাহেব ঘোরের মধ্যে পাশের চেম্বারে সেই ডাক্তারের কাছে গেলেন।
কি চমৎকার ব্যবহার! তিনি কলনস্কপি আর সিটি স্ক্যান রিপোর্ট দেখলেন। উনিও জানালেন অপারেশনের
প্রয়োজনীয়তার কথা। ঠিক হোলো আগামী সপ্তাহে অপারেশন হবে।
ক্যান্সারের নাম শুনলেই যেভাবে আতঙ্ক গ্রাস করে, রমজান সাহেবের পরিবারেও
একই অবস্থা। সবার মনে ভয়, খাওয়া দাওয়া শিকেয় উঠেছে। সবাই এখন ক্লিনিকে। তার বড় মেয়ে
প্রজ্ঞা সারাদিন ফোনের মধ্যে নাক ডুবিয়ে থাকে, নাওয়া খাওয়া ভুলে। হাজার বার বকুনি দিয়েও
তার এই বদ অভ্যাস ছাড়ানো যায় নি। এই নিয়ে পিতা-কন্যার মধ্যে “মিল মহব্বতে” একটু ঘাটতি
দেখা দিয়েছে ইদানীং কালে। তবে রহমান সাহেবের ভাষায় “আজকে সে একটা কাজের কাজ করে ফেলেছে”।
মেয়েটা ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখে বলল, “এই অপারেশনে এত ভয়ের কিছু নেই,
আব্বা!। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে শতকরা ৯৭ ভাগ মানুষ বেঁচে থাকেন।”
তাহলে এমন নয় যে মৃত্যু শিয়রে এসে দাঁড়িয়েছে? খানিকটা স্বস্তি অনুভব
করেন রমজান সাহেব। বুকটা একটু হালকা লাগে। তবে মৃত্যু ভয়টা কমলেও অপারেশনের ব্যাথার
ভয়টা পেয়ে বসে!
প্রজ্ঞা আবার ফোনে ডুবে যায়, কিন্তু দেখেও অনুযোগ করেন না রহমান সাহেব।
পরিস্থিতি আজ পাল্টিয়েছে। ফোনে মুখ গুঁজে থাকার তাহলে কিছু উপকারিতাও আছে! মেয়ের প্রতি
মমতা অনুভব করেন তিনি। ভাবেন কতবার যে বকেছেন, কিছু মারাত্মক কটু কথাও বলেছেন! সেগুলো
ভেবে তার খুব লজ্জা বোধ হচ্ছে। একবার উঠে গিয়ে মেয়ের মাথায় হাত দিতে চাইলেন। কিন্তু
অনেক দিনের অনভ্যাসে শরীরটা একেবারেই নড়ল না।
প্রজ্ঞা ইন্টারনেট চষে বেড়াচ্ছে। অপারেশন
কিভাবে করে, এনেস্থেসিয়া কিভাবে দেয়, ব্যথা কমানোর উপায় কি, এসব নিয়ে। সে খুঁজে বের
করেছে যে “এপিডুরাল” দিলে অপারেশনের সময় এবং
পরে ব্যাথা নিরাময় সব চেয়ে সহজ। সে চায় তার আব্বাকে “এপিডুরাল” দেওয়া হোক। কিন্তু আব্বা কি রাজী হবেন?
“আব্বা!, একটা দারুণ জিনিষ পেয়েছি।”
সবাই প্রজ্ঞার দিকে তাকায়, এই সময়ে কি কেউ কোন দারুণ জিনিষের গল্প
বলে! সবাই মনে করেছে প্রজ্ঞা নিশ্চয়ই বরাবরের মত নূতন কোন বায়না ধরবে!
“এপিডুরাল” প্রজ্ঞার চোখ তখনো ফোনের দিকেই।
রহমান সাহেব বোঝেন এই মেয়েটার আসলে কোন উন্নতি হবে না। এটা নিশ্চয়ই তার নূতন বায়না।
তিনি হতাশায় মুখ নামিয়ে রাখেন। মায়ের চোখ টা ভিজে উঠে। তিনি প্রায় চিৎকার করে বলে উঠেন,
“ তুই কি আর সময় পেলি না, মা? ”
প্রজ্ঞা আসলে মায়ের কথা শুনতেই পায় নি। “আব্বা, ব্যাথা নিয়ে কোন চিন্তা
নেই। এপিডুরাল দিলে অপারেশনের পরে তোমার তেমন কোন ব্যাথাই হবে না।”
“কি?” চোখ তুলে তাকান রহমান সাহেব।
‘হ্যাঁ আব্বা। আমাদের এখন এনেস্থেসিয়া যিনি দেবেন তার সাথে কথা বলতে
হবে। উনি সব বুঝিয়ে বলবেন।” প্রজ্ঞা কথা শেষ করেই বেরিয়ে যায়, এনেস্থেটিস্ট কে হবেন
তার খোঁজ করতে। মায়ের ভেজা চোখে আরেক ফোটা জল গড়ায়, এবার খুশিতে।
এনেস্থেটিস্টের নাম আব্দুর
রহমান। একজন অধ্যাপক। উনার সাথে কথা বলতেই রাতে দেখা করার সময় দিলেন। যেহেতু উনি ওই
হাসপাতালেই এনেস্থেসিয়া দেন, আজ রাতেই কেবিনে
এসে দেখে যাবেন। রহমান সাহেব একটু অবাক হলেন। ডাক্তার সাহেব তার রুমে এসে তাকে দেখে
যাবেন? তাদের দুজনের নামে বেশ মিল, দুজনেই রহমান। দেখা যাক কেমন হন এই ডাক্তার সাহেব।
রাত ৮.৩৫ মিনিটে ডাক্তার সাহেব এলেন।
“সরি রহমান সাহেব, ৫ মিনিট দেড়ি হয়ে গেল”
কোন ডাক্তার সাহেব দেড়ি হওয়ার জন্য সরি বলেন এমন কথা জানা ছিল না রহমান
সাহেবের। ডাক্তার সাহেবের এই ব্যাবহার খুব ভাল লাগে!
“আপনার অপারেশন তো আগামী কাল। আমি আপনার সাথে এনেস্থেসিয়া নিয়ে কিছু
কথা বলব।”
“আপনি কি এপিডুরাল দেবেন?” প্রজ্ঞা কথার মাঝখানে জিজ্ঞেস করে।
“আগে উনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে জেনে নিই” রহমান সাহেবের গলায় কোনো বিরক্তি
নেই। ইনি এনেস্থসিয়ার রহমান। রহমান সাহেব, রহমান সাহেবের কোন এলারজি আছে কিনা, কি কি
ওষুধ খান, আগের কোন অপারেশন হয়েছিল কিনা, কোন সমস্যা ছিল কিনা এমন অসংখ্য প্রশ্ন করেন।
তার ধৈর্য থাকে কিন্তু রোগীর মনে হয় এসবের কি দরকার।
‘সার্জন সাহেবের সাথে কথা বলেছি আপনার বিষয়ে। উনার মনে হয় আপনার অপারেশন
ল্যাপারস্কপি করে করা যাবে না। এই অপারেশনে পেট একটু বড় করে কাটতে হয়। পেটের মাঝ বরাবর
কাটাটা নাভির উপড়ে গেলে বড় নিঃশ্বাস নিতে ব্যাথা লাগে। দুই-তিন ভাবে এই ব্যাথা উপশম
করা যায়!” ডাক্তার সাহেব বলে চলেন, আর চোখ বড় বড় করে শুনতে থাকে পরিবারের সবাই।
“এপিডুরাল হচ্ছে এদের মধ্যে সব চাইতে ভাল নিরাময়। যখন ঠিক মত কাজ করে
তখন এর চেয়ে ভাল আর কিছু হয় না। অনেক বড় বড় অপারেশনে এপিডুরাল দেওয়া হয়। এপিডুরাল হচ্ছে
আমাদের স্পাইনাল কর্ডের (বাংলায় যাকে স্নায়ু রজ্জু বলা হয়) বাইরের দিকের আস্তরণ। এখানে
একটা খুব সরু ক্যাথেটার দিয়ে একটানা ওষুধ চলতে থাকে। প্রয়োজনে কম বেশি করা যায়। ব্যাথা
কমে গেলে বের করে নেওয়া হয়। সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত এটা রাখা হয়।
“এটা আমাকে অজ্ঞান করার পরে দিবেন তো?” কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করেন রহমান
সাহেব।
“না, এটা আপনাকে ঘুম পাড়ানর আগেই দেওয়া হবে। আপনি বসে থাকবেন। একজন
নার্স আপনার সামনে থাকবেন। আপনার পিঠের একটা নির্দিষ্ট জায়গা প্রথমে এন্টি সেপ্টিক
ওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করে ব্যথানাশক ওষুধ দেব যেন বড় সুচ দেওয়ার সময় টের না পান। তারপরে
সেই সুচের মধ্যে দিয়ে একটা ক্যাথেটার জায়গা মত ঢুকিয়ে রাখা হবে। সেই ক্যাথেটারের একটা
মাথা টেপ দিয়ে আপনার ঘাড়ের কাছে লাগান থাকবে। সেই মাথাতেই ওষুধের ব্যাগ লাগানো থাকবে।”
“এত ব্যাথা বোধহয় সহ্য করতে পারব না ডাক্তার সাহেব। আমি সুচ দেখলেই
ভয় পাই।”
এই পরিস্থিতেও প্রজ্ঞা হেসে উঠে। পরিবারের সবাই জানে রহমান সাহেব ইনজেকশনের
নাম শুনলেই আধমরা হয়ে যান। তিনি ওষুধ খেতে রাজী আছেন। দরকার হলে উপদেশ শুনতে পারেন,
তিতা চিরতা খেতে পারেন, কিন্তু ইনজেকশন, উনার নিজের ভাষায়, “নেভার নেভার নেভার।”
যতটা মনে করছেন ঠিক ততটা ভয়ের কিছু নেই। ব্যাথা খুব কম লাগবে। আর অপারেশনের
পরে ব্যাথা একদম ই থাকবে না।
“এর কি কোন সাইড ইফেক্ট আছে ডাক্তার সাহেব? কোন ভয়ের কারণ?”
“এটি ব্যাথা কমানোর একটি চমৎকার পদ্ধতি। কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে
যেমন, পিঠে ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, ইনফেকশান হওয়া। রক্ত যাদের ঠিকমতো জমাট বাধে না, বা
কোন ওষুধ খান রক্ত তরল রাখার জন্য তাদের রক্ত ক্ষরণ হতে পারে। খুব বিরল একটা জটিলতা
হচ্ছে নার্ভে সমস্যা হওয়া।”
আর শুনতে পারেন না রহমান সাহেব, চোখ বন্ধ করে ভাবতে থাকেন অপারেশন
শেষ হয়েছে কিন্তু তার পায়ে শক্তি নেই, তিনি পা নাড়াতে পারছেন না। তিনি কিভাবে এই জীবন
কাটাবেন? তার প্রয়োজন নেই এই ডুরাল নাকি ফুরালের।
প্রজ্ঞা জিজ্ঞেস করে, “ কতজনের অপারেশনের পরে এসব সমস্যা হয়?”
নার্ভের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা এক লাখে একজনের। যদি কোন কারণে এপিডুরাল
দিতে যেয়ে বার বার ফুঁড়তে হয় তবে সম্ভাবনা
আরেকটু বেড়ে যায়। সেটা হয়ত কুড়ি হাজার জনে
একজন।”
“তাহলে তো খুব বেশি সম্ভাবনা নয়?” বোঝা যায় না রহমান সাহেবের ভীতি
কেটেছে কিনা।
“ রাস্তায় বের হলে গাড়িতে এক্সিডেন্ট করার সম্ভাবনা ৫ হাজারে একজনের।
আমরা কি গাড়ী বের করা বন্ধ করেছি? সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ তো পঙ্গু হয়ে যায়, মরে যায়।
আমরা কি বাস, ট্যাক্সি, রিকশা চড়া বন্ধ করেছি? তবে এটা আপনার সিদ্ধান্ত আপনি এপিডুরাল
চান কি না।”
ডাক্তার রহমানের কথায় ভরসা পেলেন রহমান সাহেব।
তিনি চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করলেন, “ রাখে আল্লাহ, মারে কে?”
ঠিক আছে ডাক্তার সাহেব, আপনি আমাকে এপিডুরাল দিয়েন। আমার দ্বায়িত্ত
আপনার হাতে তুলে দিলাম। এখন আল্লাহর যা মর্জি।”
তিন দিন পরের কথা। কোন রকম ব্যাথা ছাড়াই হেঁটে বেড়াচ্ছেন রহমান সাহেব।
এলাকার কমিশনার সাহেব দেখতে এসেছেন। অপারেশনের ঘরে বেশি লোক আসা নিষেধ। তাই উনি নার্সের
কথা শুনে সঙ্গী সাথিদের বাইরে রেখে এসেছেন,
যদিও চামচাদের ছাড়া ভেতরে যাওয়া তার পছন্দ হয়নি। কি আর করা, সামনে ভোট বলে কথা!
‘কেমন আছেন রহমান সাহেব? ব্যাথা, বেদনা তো নাই? ”
“আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল। একটুও ব্যাথা নাই। এনেস্থেশিয়ার ডাক্তার সাহেব
একটা চমৎকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন! এপিডুরাল। অপারেশনের পরে একটুও ব্যাথা টের পাইনি।
এপিডুরাল আসলেই কাজের জিনিষ। সবারই উচিত অপারেশনের আগে একজন ভাল এনেস্থেটিসটের সাথে
কথা বলা।
কমিশনার সাহেব ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না সেটা কি জিনিষ। তবু বলেন, ভাল
হলেই ভাল। কোন সমস্যা হলে বলবেন, দরকার হলে ডাক্তারকে টাইট করে দিব।
“জি না, টাইট ডাক্তারদের দরকার নাই। দরকার অন্য কারও।” মুখটা কঠিন
দেখায় রহমান সাহেবের।
কমিশনার সাহেব বুঝতে পারেন ভুল নার্ভে হাত দিয়েছেন। বলেন, “আরে না,
না। আপনার ডাক্তার তো খুবি ভাল। আপনি তো আমার
নিজের লোক। আপনার জন্য সব কিছু করতে পারি, তাই বলছিলাম আর কি! বুঝলেন না! ভাল যখন আছেন,
আজ তাইলে উঠি। সামনে তো ভোট আসতেছে, একটু খেয়াল রাইখেন। যাই, সবার সাথেই তো দেখা করতে
হবে।”
রহমান সাহেব দেখেন পাশের বিছানায় মেয়েটা ফোনে মুখ গুঁজে আছে। আজ আর
কিছু বলেন না। মুখে একটা স্নেহ মেশানো হাসি খেলে যায়! তার মেয়েটাও তো একজন চমৎকার এনেস্থেটিস্ট
হতে পারে বড় হলে!
পুনশ্চঃ এপিডুরাল পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয় গত শতাব্দীতে। বাংলাদেশেও
বিভিন্ন হাসপাতালে এপিডুরাল দিতে পারেন এমন এনেস্থেটিস্ট আছেন। বড় যে কোন অপারেশনের
আগে অবশ্যই আপনার এনেস্থেটিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন।
ডাঃ অসিত বর্দ্ধন , প্রবাসী এনেস্থেটিস্ট।
ফেসবুকে bdemr.com এ যে কন এনেস্থেসিয়া সঙ্ক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন
No comments:
Post a Comment